ছুটির দিনে আশানুরূপ বিক্রি

spot_img

সম্পর্কিত আর্টিকেল

৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী চমক

শোবিজ প্রতিবেদন: মাত্র ৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন...

জটিল রোগে আক্রান্ত তাহসান দিলেন দুঃসংবাদ

গুরুতর জটিল রোগে আক্রান্ত দেশের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার, অভিনেতা...

সালমান মুক্তাদির হাসপাতালে

দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির স্বাস্থ্য পরীক্ষার...

মোশাররফ করিমকে নিয়ে ‌‘আক্কেলগঞ্জ হোম সার্ভিস’

মোশাররফ করিমকে নিয়ে তৈরি হয়েছে টিভি ধারাবাহিক ‘আক্কেলগঞ্জ হোম...

বিনোদন প্রতিবেদক
ছুটির দিনে দলবেঁধে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেছে স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে। টিএসসির বিপরীত পাশের গেট, বাংলা একাডেমির উল্টো পাশের গেটসহ উদ্যানে প্রবেশের প্রতিটি প্রবেশপথেই ছিলো ব্যাপক লোক সমাগম। স্টলে স্টলে আর প্যাভিলিয়নে প্যাভিলিয়নে বইপ্রেমীদের ছোটাছুটিতে ভিন্ন এক চিত্র ফুটে উঠেছিল অমর একুশে বইমেলায়। সেই সাথে হাতে হাতে বইয়ের ব্যাগ অন্যরকম সুষমা দান করেছে গতকাল একুশে বইমেলার তৃতীয় দিনে। শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে এদিন প্রায় প্রতিটি প্রকাশনীতেই আশানুরূপ বিক্রি হয়েছে। বিকালের দিকে বিকিকিনির দৃশ্য মোটামুটি ঢিলেঢালা থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ক্রেতাদের সামাল দিতে পারছিলেন না স্টল ও প্যাভিলিয়নে কর্মরতরা। সন্ধ্যায় কথা হয় শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজলের সাথে। বিক্রি কেমন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মেলার শুরুর দিকে যেমনটি হওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বছর প্রথম দুইতিন বিক্রি কম থাকলেও এবছর তার ব্যতিক্রম। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এবারের বইমেলা অনেক বেশি সফলতা পাবে বলে প্রত্যাশা করছি। আমজাদ হোসেন কাজলের সাথে সহমত প্রকাশ করে কথা প্রকাশের ব্যবস্থাপক শেখ ইউনুস আলীও বললেন, প্রথম দিকেই এবার মেলা যেভাবে জমে উঠেছে এবং লোকজন বই কিনছে তাতে করে এবারের মেলা নিয়ে আমরা অগ্রিম সফলতা কামনা করতেই পারি। তবে, ভিন্ন কথা বললেন, মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের প্রকাশকরা। এই অঞ্চলের ৩২জন প্রকাশক জানান, মেলার মূল অংশ থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন অংশে স্টল দেওয়ার কারণে তাদের স্টলগুলোতে মানুষ একেবারেই আসে না। গতবার মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের গেটটি প্রবেশপথ থাকলেও এবার সেই গেটটিকে বের হওয়ার পথ হিসেবে রাখা হয়েছে। যার কারণে এই অংশের ৩২জন প্রকাশক মূল মেলা থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন অংশে পড়েছেন। তাদের দাবি, মন্দির বরাবর গেটটিকে বের হওয়ার পথ রেখে মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের গেটটিকে প্রবেশপথ হিসেবে চালু করা হোক। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রকাশকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। এই অংংশের চার ইউনিটের স্টল বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশনা সংস্থা জোনাকী প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারি মঞ্জুর হোসেন বলেন, বাংলা একাডেমির স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রকাশনাশিল্প নিয়ে আমরা এখন চরম হুমকির মুখে। মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের গেটটিকে প্রবেশপথ হিসেবে খুলে দেওয়া না হলে স্টল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প আর কোনো পথ খোলা নেই। অন্যদিকে, মেলার মূল অংশে এনজিও, ব্লাড ব্যাংক, মাতৃশিশু স্বাস্থ্য ও রংপুরের হাইপারটেনশন এন্ড রিসার্চ সেন্টারের স্টল বরাদ্দ দেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কথামেলা প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারি আব্দুর রউফ বকুল। তিনি বলেন, মেলা হচ্ছে বইমেলা। আর প্রকাশকরাই মেলার মূল প্রাণ। সেখানে মূল অংশে এসব এনজিও, ব্লাড,ব্যাংক, হাইপারটেনশন রিসার্চ সেন্টার ও মাতৃশিশু স্বাস্থ্যের স্টল বসিয়ে মেলার সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি ৩২জন প্রকাশককে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ৩২জন প্রকাশকের ক্ষোভের বিষয়ে জানার জন্য ও তাদের দাবি পুরণ করা হবে কিনা জানতে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলামকে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নি।
এদিন ছিলো বইমেলার দ্বিতীয় শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই প্রহরের সিসিমপুরে টিকটিকি,,হালুম ও ইকরি মিকরির সাথে দুরন্তপনায় মেতে উঠে শিশুরা। শনিবার মেলার তৃতীয় দিনে নতুন বই এসেছে ৭৪টি।

ইমদাদুল হক মিলনের ” চোর এসে গল্প করেছিল”
এবারের মেলায় এসেছে কালের কন্ঠের প্রধান সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের বই “চোর এসে গল্প করেছিল”। বইটি আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে। পাঠক চাহিদার নিরীখে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বইটির দ্বিতীয় সংস্কৃরণ মেলায় আসবে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক।
আসিফ নজরুলের ” আমি আবুবকর ”
এবারের মেলায় প্রথমা প্রকাশন এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও টক শো ব্যক্তিত্ব ড. আসিফ নজরুলের বই “আমি আবু বকর”। বইটি পাঠক চাহিদায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে। প্রথম সংস্করণ শেষে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণও মেলায় চলে এসেছে।
আনিসুল হকের ” কখনো আমার মাকে”
প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশ হয়েছে আনিসুল হকের বই “কখনো আমার মাকে”। বইটি ইতোমধ্যেই পাঠকদের দ্বারা সমাদৃত হয়েছে। আগামী দুই/ একদিনের মধ্যে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ মেলায় আসবে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থা।
মূল মঞ্চ
বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় “দ্বিশতজন্মবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : মাইকেল মধুসূদন দত্ত” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খসরু পারভেজ এবং হোসনে আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা।
প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন-বিচার কেবল মননশীল সাহিত্য-সমালোচনার বিষয় নয়, সমগ্র ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিসত্তা, সমাজসত্তা ও সৃষ্টিশীলতার জাগরণ এবং সাহিত্যের প্রায় সবগুলো রূপের উন্মেষ ও প্রতিষ্ঠার বহুমুখী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সাফল্যের ইতিবৃত্ত। নাটক, আখ্যান-কাব্য, গীতিকবিতা, চতুর্দশপদী, পত্র-কাব্য, গ্রিক মহাকাব্যের গদ্যানুবাদ, ইংরেজি রচনা ও চিঠিপত্র মিলিয়ে তার সৃষ্ঠিশীল প্রতিভার প্রকাশরূপ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়িত হয়েছে। তার কিংবদন্তিতুল্য জীবন ও কর্মের সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত রূপ অঙ্কনের প্রয়াস আজও চলমান।
সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাংলা সাহিত্যের আদি আধুনিক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি এমন একজন সৃষ্টিশীল সত্তা যিনি বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, বিভিন্ন ভাষার মৌলিক সাহিত্য পাঠ করেছিলেন এবং নিজস্ব মৌলিকতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর এই মৌলিকতাকেই আমরা বলি আধুনিকতা। দ্বিশততম জন্মবর্ষে তাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক।
আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক সালেহা চৌধুরী, লালন গবেষক আবু ইসহাক হোসেন এবং কবি ও প্রাবন্ধিক মামুন মুস্তাফা।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি নাসির আহমেদ, তারিক সুজাত, শাহনাজ মুন্নী এবং নাহার মনিকা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মিলন কান্তি দে, শাহাদাৎ হোসেন নিপু এবং আফরোজা কণা। এছাড়া ছিল ঝর্ণা আলমগীরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং লক্ষ্মীকান্ত হাওলাদারের ল পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শেখ রাসেল ললিতকলা একাডেমির পরিবেশনা। এতে একক সংগীত পরিবেশন করেন সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, লাইসা আহমেদ লিসা, অনুরাধা মন্ডল, মুহাঃ আব্দুর রশীদ, সঞ্চিতা রাখি এবং পাপড়ি বড়ুয়া।

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

spot_img