কর্মমুখর দিনেও বইপ্রেমীদের ভিড়

spot_img

সম্পর্কিত আর্টিকেল

৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী চমক

শোবিজ প্রতিবেদন: মাত্র ৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন...

জটিল রোগে আক্রান্ত তাহসান দিলেন দুঃসংবাদ

গুরুতর জটিল রোগে আক্রান্ত দেশের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার, অভিনেতা...

সালমান মুক্তাদির হাসপাতালে

দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির স্বাস্থ্য পরীক্ষার...

মোশাররফ করিমকে নিয়ে ‌‘আক্কেলগঞ্জ হোম সার্ভিস’

মোশাররফ করিমকে নিয়ে তৈরি হয়েছে টিভি ধারাবাহিক ‘আক্কেলগঞ্জ হোম...

বিনোদন প্রতিবেদক
টানা দুইদিন ছুটির দিনের পর কর্মমুখর দিনে লোকজন কম থাকে আর বিক্রিও কম হয় এমনটি হয়ে আসছে বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু রবিবার অমর একুশে বইমেলার চতুর্থ দিনে ঘটেছে তার উল্টোটা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিলো গতকাল রবিবারেও। বইপ্রেমীদের ভিড়ে অন্যরকম ভালোলাগার দৃশ্য ছিলো স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাড়ে নয় লাখ বর্গফুটের পরিসর৷ বইপ্রেমীদের আগমন ও আশাব্যঞ্জক বিক্রিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতরা। বিকাল তিনটায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হওয়ার পর পরিবেশ কিছুটা ঢিলেঢালা থাকলেও সন্ধ্যার আগেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বিক্রি ও বইপ্রেমীদের আগমনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, আজ যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি লোকজনের আগমন ঘটেছে। সাধারণত শুক্র ও শনিবারের ছুটির পর রবিবারে ভিড় একটু কম হয়। কিন্তু বইপ্রেমীদের পদচারণা ও আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুধু দর্শনার্থীরাই আসেনি প্রকৃত বইপ্রেমীরাও এসেছে। নিজেদের প্রকাশনীর বিক্রি নিয়ে তৃপ্ত আমজাদ হোসেন কাজল জানান, ইতোমধ্যেই ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত মহিউদ্দিন আহমেদের “চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ ” বইটির প্রথম সংস্করণ শেষ হয়েছে,, আগামীকাল সোমবার বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ মেলায় চলে আসবে।
মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে কথা হয় রাজধানীর লালবাগ থেকে আগত বইপ্রেমী শরীফুল হকের সাথে। তিনি বলেন সায়েন্সফিকশন ও উপন্যাস কিনেছি, কয়েকদিন পরে এসে মোটিভেশনের বই কিনবো। প্রযুক্তির এই সময়ে মানুষ যখন ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত তখন তার বইয়ের পাতায় ডুবে থাকতে ভালো লাগে বলেও জানালেন বইপ্রেমী শরীফুল হক।

জালাল উদ্দিন রুমির কবিতা নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর “কারণ,,আমি ঘুমাতে পারি না”
দার্শনিক,,চিন্তক ও কবি জালাল উদ্দিন রুমির প্রেম ও বিরহের কবিতা নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনুবাদে প্রকাশনা সংস্থা নালন্দা প্রকাশ করেছে ” কারণ, আমি ঘুমাতে পারি না”। রুমির শতাধিক কবিতার অনুবাদ আকারে প্রকাশিত এই বইটি পাঠকদের দ্বারা সমাদৃত হচ্ছে বলে জানালেন প্রকাশনা সংস্থা নালন্দার সাথে সংশ্লিষ্টরা। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সজল চৌধুরী। দাম সাড়ে চারশ টাকা।

রবিবার মেলার চতুর্থ দিনে নতুন বই এসছে ৬৬টি।
মূল মঞ্চ
বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : কাঙাল হরিনাথ মজুমদার শীর্ষক আলাচনা।
এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তপন মজুমদার। আলাচনায় অংশগ্রহণ করেন জাফর ওয়াজদ এবং আমিনুর রহমান সুলতান। সভাপতিত্ব করেন মুনতাসীর মামুন। আলাচনার শুরুতেই কাঙাল হরিনাথ মজুমদারর জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রাবন্ধিক বলেন, বাউল সংগীতকে সামাজিক জীবনধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মানস ঊনবিংশ শতকে যে কয়েকজন সাহিত্যসাধক নিজেদের নিয়োজিত করেছিলেন কাঙাল হরিনাথ তাদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃত। কাঙাল হরিনাথ হিরন্ময় প্রতিভার অধিকারী ছিলন। কাঙাল হরিনাথের জীবন-দর্শন, আধ্যাত্ম ভাবনা ও মরমি মানসর পরিচয় পাওয়া যায় তার বাউল সংগীতের মধ্য দিয়ে। এই বাউল সংগীতজ্ঞের কথা ও সুর এবং সহজ-সরল প্রাণস্পর্শী ভাব কী শিক্ষিত আর কী নিরক্ষর, সকলকেই মুগ্ধ কর।
আলাচকরা বলেন, রুচিশীল ও শিল্পবোধ-সম্পন্ন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন সৌন্দর্যের পূজারি। আমাদের আবহমান বাংলার লোক-ঐতিহ্যকে হৃদয় ধারণ করছিলেন তিনি। সংবাদপত্র ও সাহিত্যকে তিনি শাসক ও শাষকদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি যেমন বাউল গান অধ্যাত্মবাদের কথা বলেছেন তেমনি সমাজ-সংস্কারের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার নিজেইই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।
মুনতাসীর মামুন বলেন, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একইসঙ্গ বিদ্রোহী এবং অধ্যাত্মবাদী। তার কর্মের ব্যাপ্তি ছিল অনক দূর-বিস্তৃত৷ সৃজনশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি প্রান্তিক অবস্থানে থেকেও সমাজ সংস্কারের উদ্যাগ নিয়েছেন।
রবিবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন চলচ্চিত্রকার ও লেখক তানভীর মোকাম্মেল, শিশুসাহিত্যিক বেণীমাধব সরকার, গবেষক কাজল রশীদ শাহীন এবং কবি ফারুক আহমদ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আনিসুল হক, ফারুক মাহমুদ এবং ঝর্না রহমান। আবত্তি করেন জয়ন্ত চট্টাপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ এবং নায়লা তারানুম চৌধুরী। আরো অংশসাং নেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নকশিকাঁথা’,। একক সংগীত পরিবেশন করেন
ফরিদা পারভীন, চদনা মজুমদার, আব্দুল লতিফ শাহ, আরিফ দেওয়ান এবং সরকার আমিরুল ইসলাম।

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

spot_img