শিল্পকলা একাডেমির স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত একই মঞ্চে গাইলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ২০ জন কণ্ঠ ও শব্দ সৈনিক

spot_img

সম্পর্কিত আর্টিকেল

৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী চমক

শোবিজ প্রতিবেদন: মাত্র ৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন...

জটিল রোগে আক্রান্ত তাহসান দিলেন দুঃসংবাদ

গুরুতর জটিল রোগে আক্রান্ত দেশের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার, অভিনেতা...

সালমান মুক্তাদির হাসপাতালে

দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির স্বাস্থ্য পরীক্ষার...

মোশাররফ করিমকে নিয়ে ‌‘আক্কেলগঞ্জ হোম সার্ভিস’

মোশাররফ করিমকে নিয়ে তৈরি হয়েছে টিভি ধারাবাহিক ‘আক্কেলগঞ্জ হোম...

বিনোদন প্রতিবেদক
হাজার বছরের সংগ্রামমুখর বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ছিলো স্বাধীনতার ৫৩তম বার্ষিকী। দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
সকাল ১১টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিনব্যাপী এই আয়োজন।
কথামালা আর সংস্কৃতির সুধা ছড়িয়ে অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাকে মূর্ত করে তোলেন শিল্পীরা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান।
একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শব্দসৈনিক অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিশুদের উদ্দেশ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন- ’তোমরা দেশকে ভালোবাসো, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানো এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যদি তোমাদের সামনে কেউ কোনো অবজ্ঞা বা কটাক্ষ করে তাহলে তোমরা প্রতিবাদ করবে, কারণ তোমরা হলে আমাদের সামনের প্রজন্ম, তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।
অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ বলেন- ‘আমরা প্রায়শই দেখি, সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলে অনেকেই আমাদের বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে অনেক ভুল উত্তর দিয়ে থাকে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। আমি বলবো, প্রত্যেকেরই দ্বায়িত্ব আমাদের ছেলে মেয়েদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দেয়া।
একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আমাদের এ প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে যে আমাদের দেশটা যেনো আর কোন যড়যন্ত্রের শিকার না হয়, দেশটা যেনো আর ইতিহাস বিকৃতির শিকার না হয়।
আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন দেশের মুক্তিযুদ্ধে শব্দ ও কন্ঠসৈনিক হিসেবে অবদান রাখা ২০ জন গুনী শিল্পী। তারা হলেন- কণ্ঠশিল্পী মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, মোঃ মনোয়ার হোসেন খান, এম.এ. মান্নান, মোঃ রফিকুল আলম, তিমির নন্দী, শিবু রায়, মনোরঞ্জন ঘোষাল, মোঃ আবু নওশের, মলয় কুমার গাঙ্গুলী, রথীন্দ্রনাথ রায়, কল্যাণী ঘোষ, রূপা ফরহাদ, মালা খুররম, জয়ন্তী লালা, ছন্দা ভূঁইয়া হাজরা, শীলা ভদ্র, আজহারুল ইসলাম, শাহীন সামাদ, অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ এবং কর্মী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন খান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যে গানগুলো আপামর বাঙালিকে উজ্জীবিত ও উদ্ধুদ্ধ করেছিলো নতুন প্রজন্মের সাথে সম্মিলিতভাবে সেই গানগুলো পরিবেশন করলেন কন্ঠ ও শব্দ সৈনিকরা। তারা পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ‘নোঙর তোল তোল’, ও ‘স্বাধীন স্বাধীন’। সম্মিলিত এ পরিবেশনায় কন্ঠ ও শব্দ সৈনিকদের সাথে যুক্ত হোন একাডেমির শিশু শিল্পীরাও। এরপর মুক্তিযুদ্ধের চরমপত্র পাঠ করেন আল আমিন শেখ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল পরিবেশন করে দলীয়সংগীত ‘জয় বাংলা জয় বাংলা বইরা রে’ এবং ‘সাড়ে সাত কোটি বাঙালির’। মো: আবু নওশের এবং মো: মনোয়ার হোসেন খান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতারের সেই সময়ের জনপ্রিয় ‘জল্লাদের দরবার’নাট্যাংশ। এরপর ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ এবং পূর্ব দিগন্তে সূয উঠেছে’পরিবেশন করেন তারা।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন শিশু শিল্পীরা।
এতে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে গ্যান্ডারিয়া কিশলয় কচি কাঁচার মেলা ‘সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের’। এরপর চরমপত্র পাঠ করেন শিশুশিল্পীরা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সমর্পণ কলা কেন্দ্র। ‘জনতার সংগ্রাম চলবে’গানে নৃত্য পরিবেশন করেন তারা।
সবশেষে “শোন একটি মুজিবের থেকে” দলীয় সংগীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু সংগীতদল ‘।
এর আগে সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান। এতে কবিতা পাঠ করেন- গোলাম সারোয়ার, ইকবাল খোরশেদ,মাশকুর-এ -সাত্তার কল্লোল, আহসান উল্লাহ তমাল, মাহমুদা আক্তার, লায়লা আফরোজ, রেজিনা ওয়ালী লীনা, মিজানুর রহমান সজল এবং কাদের তালুকদার।
এরপর সকাল ১০টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাডেমির পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

 

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

spot_img